এখনো খুঁজে ফিরি By _Afrin Islam

স্বাধীন ও স্বর্ণার প্রথম দেখা হয় উত্তরার এক শপিং মলের ফুড কোর্টে। স্বর্ণা তার দুই বান্ধবী তৃষ্ণা ও সীমা কে নিয়ে স্কুল শেষ করে খেতে গেছে ওখানে। স্বাধীনও তার কাজিন আবীরকে (স্বাধীনের কাজিন) নিয়ে ওখানে আসছে । স্বর্ণা যখন তার বান্ধবীদের নিয়ে লিফটের কাছে তখন স্বাধীন আবীরকে নিয়ে মাত্র লিফট থেকে নামল। প্রথম দেখায় প্রেম এমন কথা বহুবার শুনেছে স্বাধীন, কিন্ত এটা যে তার জীবনেও ঘটবে এমনটা কখনও ভাবে নাই সে। মায়াবি, নিষ্পাপ, সদা চঞ্চল একটা মূখ। লম্বা চুল বেনী করে সাদা ফিতা দিয়ে বেঁধে দু’পাশে ঝুলিয়ে দেয়া । এ কারনে হয়তো আরও বেশী সুন্দর লাগছে। হাত নেড়ে নেড়ে কথা বলছে, যেনো কথা বলার চেয় আনন্দের আর কিছু নাই।আর একটু পর পর হেসে উঠছে খিলখিল করে। মনে হছে পৃথিবীর সমস্ত আনন্দ, সুখ হাসি শুধুমাত্র ওর জন্য সৃষ্টি। আর ও সৃষ্টি হয়েছে স্বাধীনের জন্য। লিফট থেকে নেমে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আবীর বলল…

– কিরে গাধা,
এভাবে দাড়িয়ে থাকবি? নাকি সরে গিয়ে অন্যদের জায়গা দিবি? ঠিক সে সময় স্বর্ণা তাকায় স্বাধীনের দিকে। ও কিছুটা অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে চোখটা নামিয়ে সামান্য আগাতে গিয়ে হোঁচট খায়। এটা দেখে তিন বান্ধবী হেসে উঠে । কিছুটা লজ্জা পেয়ে দ্রুত সরে যায় স্বাধীন। খেতে বসে সব অর্ডার দেয় আবীর। স্বাধীন কি খাবে জিজ্ঞাস করলে বলে – তোর যা ইচ্ছা। কেননা ওর চোখ জুড়ে তখন শুধুই একটা মায়াবী মুখ ভাসতে থাকে, কানে বাজতে থাকে ওর হাসি। এক মুহূর্তে বুঝতে পারে ঐ মেয়েটা কে ছাড়া তার জীবন চলবে না। কোন কথা না বলে সোজা লিফটের দিকে চলে যায় ও। নিচে নেমে অনেক খোঁজ করে ওদের। কিন্ত না পেয়ে মন খারাপ করে আবীরের কাছে আসে। স্বাধীন মাত্র বুয়েটে ম্যাকানিকাল ইঞ্জিঃ এ ভর্তি হয়েছে। উত্তরাতে থাকে। ২ ভাই-বোনের মধ্যে ছোট সে। ঠান্ডা প্রকৃতির ছেলে। দেখতে শুনতে ভাল হলেও পড়াশুনা ছাড়া আর কিছু নিয়ে কখনো ভাবে নাই। প্রেম করতে যেমন দেখেছে বন্ধুদের, ভেঙ্গে গিয়ে কষ্টও পেতে দেখেছে অনেক। আর তাই হয়তো এসব থেকে দূরে থাকাটাই ওর কাছে শ্রেয় বলে মনে হতো। কিন্তু মাত্র কয়েক সেকেন্ডে ১টা মেয়ে এসে তার জীবন টার অর্থ পাল্টে দেবে এটা কল্পনাতেও ভাবে নাই। সমস্ত শুনে আবীর পর্যন্ত হা হয়ে গেল। – তোর মত আতেঁল, আর প্রেম…!!! Just Impossible….. ছোটবেলা থেকে দেখছি তোকে। বইয়ের সাদা পৃষ্ঠার মাঝের কালো কালির Word গুলো ছাড়া আর কিছু ভাল লাগেতে দেখি নাই। কি করে তুই ওর প্রেমে পরলি? কটমট করে আবীরের দিকে তাকিয়ে স্বাধীন বলল –

– এটা আমি বুঝলে তোর মত গাধার কাছে কি আর Solution
চাইতাম…???

এভাবে কথা বলতে বলতে রেল লাইনের ওপরে এসে ওরা বসল। ভাগ্য যেন আজ ওদের সহায় ছিল। একটু পরে, আবীর কনুই
দিয়ে ওকে খোচাঁ মেরে বলল-

– দেখতো ঐটা সেই মেয়ে না? হটাৎ ওকে আবার দেখতে পেয়ে স্বাধীনের হার্ট
যেন বেশী বিট করা শুরু করল।
– ওই বলবি কিছু নাকি হাবলার মত তাকায় থাকবি?
– হাঁ হাঁ। ওই আমার……………… (আর কিছু না বলে তাকিয়ে রইল স্বাধীন)
আবীরের টানাটানিতে দাঁড়িয়ে ওদের পিছু হাটতে লাগলো ২ জনে। স্বর্ণারা কোয়ার্টারে থাকে। ওর বাবা সরকারি চাকুরীজিবী। ও ১০ম শ্রেনীতে পড়ছে হলিক্রস স্কুলে। বিকালে কোচিং এ যায় তার ২ বান্ধবী তৃষ্মা ও সীমার সাথে। প্রথম দিন ওদের বাসাটা চিনে আসে ২ জনে মিলে। এরপর অপেক্ষার পালা আগামী দিনের বিকালের জন্য। এভাবে চলতে থাকে। স্বাধীনের বাসায় ওর আকস্মিক পরিবর্তন- শান্ত থেকে হটাত চঞ্চল হয়ে জাওয়া, সারাদিন শুধু ঘড়ির কাটার দিকে তাকিয়ে থাকা ব্যাপার গুলো আর কারও নজর এড়ালেও নিতু আপুর চোখে কিন্তু এড়ায়নি। একদিন ৪ টার সময় ওরা যখন বের হবে তখনি নিতু আপু জিজ্ঞেস করল-

– তোদের ব্যাপারটা কি বল তো? রোজ ঠিক এই সময় মানিক জোড় এত Smart ভাবে বের হচ্ছিস। কাহিনি কি?
আবীর- ইয়ে না মানে আপু, আসলে এমনি হাঁটতে যাই।
স্বাধীন- আসলে বিকালের Weather Health এর জন্য ভাল। তাই বের হই আর কি। ২ জনের কান ধরে নিতু আপু বলল-
– হাঁ, তা তো বটেই। এই বয়সে সব Weather ই ভাল লাগে। এত গরমেও
বাসা থেকে বের হয়ে মহানন্দে রোদের মধ্যে দাঁড়ায় আরেক জনের জন্য অপেক্ষা করা। ব্যপার না,
বয়সের দোষ। তবে পড়াশুনাটা ঠিক রেখে। কেমন……???
জি আপু, বলে কানে হাত বোলাতে বোলাতে সেই রেল লাইনের পথে চলল ২ জন। এর মাঝে তিন বান্ধবী এটা Notice করেছে যে ২ জন ছেলে ওদের Follow করছে প্রায় ১ সপ্তাহ ধরে। এর বেশী কিছু না। আর তাই হয়তো এটা নিয়ে কেও কারও সাথে কোন কথা বলে নাই। এভাবে কিছুদিন যাওয়ার পরে বহু কষ্টে আবীর স্বর্ণাদের বাসার T&T নং টা জোগাড় করে দেয় স্বাধীনকে। কিন্তু call করার মত সাহস ওর হয় না। শেষ পর্যন্ত আবীরের চা্পাচাপি আর ঝাড়ির ভয়ে বহুত সাহস নিয়ে call করল। মিষ্টি কণ্ঠে ওপাশ থেকে স্বর্ণা বলে উঠল-

– হ্যালো, কে বলছেন?
– জি, আমি বলছি।
– আপনি কে?
– আমি…… মানে আমি মানুষ। – হি হি হি…… ফোন তো মানুষরাই করে, গাছ-পালা, কিংবা কোন প্রানী তো আর করে না।
– ইয়ে না মানে ……
– আমতা আমতা করছেন কেন? কি নাম আপনার? – আমি স্বা……ধীন।
– স্বাধীন শুনেছি। কিন্ত স্বা……ধীন শুনি নাই। হা হা হা……।। কাকে চাচ্ছেন? আব্বু তো এখনও বাসায় আসেন নি।
– আমি আপনাকে চাচ্ছি। – আমাকে? আপনি কি আমাকে চেনেন? আমি তো এই নামে কাওকে চিনি না।
– জি, আমি ওই যে আপনাকে রোজ
কোচিং থেকে আসার সময় দেখি। কিছুটা রাগ হয় স্বর্ণার।
গম্ভীর হয়ে বলে-

– দেখুন আমি আপনাকে ভদ্র ছেলে বলে মনে করেছিলাম। কিন্ত আপনিতো দেখছি আমার নং Collect করেছেন। আবার আমাকে Call করেছেন।

– আমাকে Kinldy ভুল বুঝবেন না। আসলে আমি আপনাকে অনেক পছন্দ করি। আর তাই…….
– থাক্ । আমি আপনার কথা শুনতে চাইনি। আর কখনো আমাকে Follow করবেন না এবং call দিবেন না। আমার বাবা জানতে পারলে খুব খারাপ হবে। এই বলে খটাশ করে ফোনটা রেখে দিল ও। স্বাধীন আর কোন কথা বলতে পারেনি। আবীর বুঝতে পারল যে কি ঘটেছে। ২/৩ দিন ধরে স্বর্ণা স্কুল / কোচিং কোথাও যাচ্ছে না। বাসায় মা কিছু জানতে চাইলেও বলছে না। ও  দিকে স্বাধীনের অবস্থাও খারাপ। ক্লাসেও যাচ্ছে না কারও সাথে কথা বলছে না। ঘুম/ খাওয়া কোনওটারই ঠিক নাই। শেষ পর্যন্ত আবীর নিজেই গেল স্বর্ণার সাথে কথা বলতে। ওকে না পেয়ে তৃষ্মা ও সীমাকে অনেক কষ্টে রাজী করালো এ ব্যপারে স্বর্ণার সাথে কথা বলতে। – শেষ পর্যন্ত মিল হলো ওদের। তৃষ্মা বলল সীমাকে।

– হুম, আবীর ভাই আর আমাদের ১ সপ্তাহের সফল অস্ত্রোপচার। হি হি হি…… – শোন যতবার Meet করবি আমাদের ১ বার করে Thanks জানাবি।
– Thanks yr….. সত্যি তোমরা না থাকলে…… বলল স্বাধীন। – থাক আর লাগবে না। তোরা কথা বল –
আমরা কাবাবে হাড্ডি না হই। এই প্রথম স্বাধীন তার সপ্নের কন্যাকে দু’চোখ ভরে দেখছে। এত
মিষ্টি কেন মেয়েটা? চোখের দিকে তাকালে আর কোনও কথা আসে না ওর। যেন চোখের দিকে তাকিয়েই অনন্তকাল কাটিয়ে দেয়া যাবে। স্বর্ণাই প্রথমে কথা বলল-

– এভাবে তাকিয়েই থাকবে……???
– না মানে, কি বলব ভুলে গেছি। মাথা চুলকাতে থাকল ও।
– কেন?
– জানি না। আসলে আমি একটু নার্ভাস।
– আমি জানতাম, তুমি এমন কিছুই বলবা। আজীবন তো শুধু বই পড়ছো।
– আসলেই তাই।অনেক কিছু ভেবে রেখেছিলাম বলব বলে। কিন্ত তোমার সামনে আসলে…… – লাগবে না। বলে অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে বসে থাকলো স্বর্ণা।
– তোমার হাত টা একটু ধরি?
– আরি বাহ্…… এই না আপনি বললেন- আমি কথা জানি না।So….. হাত ধরা যাবে না। এই বলে হাতটা বাড়িয়ে দিল ও।

স্বাধীন ওর হাতটা ধরার পর মনে হচ্ছিল দুনিয়ার সমস্ত সুখ এখন ওর হাতে। এত আনন্দ ওর জীবনে আসবে কখনো ভাবে নাই। ভাবতে ভাবতে চোখে পানি চলে আসে। কতোবার যে তখন সৃষ্টিকর্তাকে ও ধন্যবাদ জানিয়েছে। হটাৎ এক ফোঁটা পানি হাতের ওপরে পড়তেই চমকে ওঠে স্বর্ণা। ছোট্ট বুকে অদ্ভুত এক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। মনে মনে Promise করে জীবনেও এই পাগলটাকে একলা ফেলে ও দূরে যাবে না। এভাবে বেশ কয়েক মাস কেটে যায়। এর মাঝে প্রায় রাতেই ২ জনের কথা হতো। নিজেদের সপ্নগুলোতে বিচরন করে সময় কাটতো। স্বর্ণা বৃষ্টিতে ভিজে রিকশায় বসে চা খেতে খুব পছন্দ করে। ওর কারনে ভিজতে গিয়ে কত বার যে স্বাধীনের জর এসেছে তার ঠিক নাই। কিন্তু তাতে একটু ও কষ্ট লাগতো না ওর। ছোট বাচ্চার আব্দারের মত সমস্ত আব্দার রক্ষা করতো। মাঝে মাঝে কথা বলতে বলতে কখন যে সকাল হয়ে যেত বুঝতেই পারত না। কিন্তু সামনে ২ জনের ই
পরীক্ষা। তাই ওরা ব্যস্ত। কিন্তু তা নিয়ে কারও কোনও অভিযোগ নাই। ওদের Friend রা ও বেশ অবাক হতো এতটা Understanding দেখে। এক বৃহঃ রাতে কথা বলে স্বর্ণা জানায়:

– সকালে কোচিং আছে। Math Exam হবে।
– ঠিক আছে। Practice করো। আমিও Presentation Ready করবো। কাল জুম্মার নামাজ পরে এসে কথা বলব।
– Ok. Good Night & Sweet Dreams Honey.
– Sweet Dream Cuty. Bye. সকাল ০৯.০০-১২.০০ টা পর্যন্ত পরীক্ষা দিয়ে তিন বান্ধবী বাসায় যাচ্ছে।
– ওই জলদি চল। ট্রেন আসছে। বলেই দ্রুত হাটেত লাগল তৃষ্ণা।
– তোরা যা আমি আসছি। আম্মুকে Call দিয়ে জানাই। বলে ব্যগে Mobile খুঁজতে লাগলো স্বর্ণা। – কিরে তৃষ্মা, স্বর্ণাটা কই গেল? বলল সীমা।
– উফ্ এই মেয়েটা এত আস্তে হাটে কেন? ট্রেনতো কখন চলে গেছে।
– চল্, ম্যাডাম কে নিয়ে আসি। – চল্।
– কি ব্যাপার, লাইনের এই পারেও তো নাই।
– তাহলে……??? বলল তৃষ্ণা।
– কিছুই বুঝতে পারছি না।

চোখের পলকে হাওয়া হয়ে যাবে? স্বর্ণা্,,,,,,স্বর্ণা……… করে চিৎকার করতে লাগল ২ জন। কিন্তু কোথাও কোন খোঁজ নাই ওর । শেষে ওর বাসায় এসে সব ঘটনা বলল।সব শুনে স্বর্ণার বাবা পাসের ফ্ল্যাটের আতিক সাহেব সহ আরও কয়েক জন কে নিয়ে রেল লাইনের ওখানে খুঁজতে গেলেন। কোচিং এ Back করে কিন্তু না সেখানেও নাই। গেল কোথায় মেয়েটা ? প্রায় ৪৫ মিনিট খোঁজার পরে একটু দূরে ধান ক্ষেতের মধ্যে ওর স্কুল ব্যগটা পরে থাকতে দেখল সবাই। তারও ১৫ মিনিট পরে ক্ষেতের শেষ মাথায় ওর নিথর দেহটা পরে থাকলে দেখে অনেকে। তখনি Hospital এ নেয়া হয় ওকে। কিন্ত Doctor জানায় প্রায় ১ ঘন্টা আগে মারা গেছে স্বর্ণা্। মাথার পেছনে আঘাতের চিনহ পাওয়া গেছে। প্রচন্ড জোড়ে আঘাত লেগেছে। স্বর্ণা্র বাবা Doctor কে জানায় ট্রেন আসছিল, তখন ও রেল লাইন Cross করতে থাকে, এরপর থেকে আর দেখা যায়নি ওকে। সমস্ত ব্যাপারটা পরিস্কার হয়ে যায় Doctor এর কাছে। তিনি বলেন সম্ভবত ট্রেন ওর কাছে চলে আসে। ও দ্রুত সরতে পারেনি আর তাই ট্রেনের ঘূর্ণায়ন বাতাস ওকে ট্রেনের কাছে নিয়ে আসে। যার ফলে চলন্ত ট্রেনের সাথে ওর মাথা বাড়ি খায় এবং দূরে ছিটকে পরে মারা যায়। বিকেল ৫ টার সময় Ambulance স্বর্ণা্র বাসার সামনে এসে দাঁড়ায়।

সাদা কাপড়ে মোড়ানো স্বর্ণা্র কফিন টা বাসার সামনে রাখা হয়ছে। প্রচুর মানুষ এসেছে ওখানে। ওর স্কুলের Friend, Teacher অনেকেই এসেছে। নামাজ পড়ে এসে অনেকবার কল করে স্বাধীন স্বর্ণার নং এ কিন্ত মোবাইল বন্ধ দুপুরে খাওয়ার পরে আবার কল দিয়ে মোবাইল বন্ধ পেয়ে ভাবল হয়তো Exam দিয়ে এসে tired তাই ঘুমুচ্ছে। সীমা স্বাধীনকে কল করার সাহস পায় নাই। তাই আবীরকে ফোনে সব জানায়। তখনি আবীর নারায়নগঞ্জ থেকে ছুটে আসে। অনেক কষ্টে ভাঙ্গা ভাঙ্গা ভাবে আবীর স্বর্ণা্র কথাটা ওকে জানায়। প্রথমে কিছুই Believe করেনি স্বাধীন। পরে আবীরের চোখে পানি দেখে তখন এক ছুটে বাসা থেকে বেরিয়ে দৌড়াতে থাকে স্বর্ণা্দের বাসার দিকে। আবীরও পিছু পিছু আসে। এসে দেখে বাসার সামনে অনেক জটলা। মাঝে খাটিয়াতে শোয়ানো আছে স্বর্ণা্। চোখ দুটো এমন ভাবে বন্ধ যেন ঘুমাচ্ছে। সাদা ফরসা মুখটা এখনো হাসি হাসি। মনে হচ্ছে এই বুঝি ঘুম থেকে জেগে উঠবে। – এই আবীর, আমি বললাম না ও ঘুমাচ্ছে। এক্ষুনি ওর ঘুম ভাঙবে দেখবি। কিন্তু এত মানুষ কেন ওর পাশে? আরে ওতো ঘুমাচ্ছে। – স্বাধীন বোঝার চেষ্টা কর ও আর আমাদের মাঝে নেই।

– চুপ এটা বলবি না। স্বর্ণা আমার কাছে Promise করেছে জীবনেও আমাকে একলা ফেলে ও দূরে যাবে না, ও জানে আমি ওকে ছেড়ে এক মুহূর্ত থাকতে পারব না। আবীর আমার স্বর্ণাকে নিয়ে কই যায়? আরে ওতো ঘুমাচ্ছে। ওকে বাসায় নিয়ে যান। বাইরে রাখছেন কেন? বাচ্চা মেয়ে এই পাতলা কাপড়ে তো ওর ঠাণ্ডা লেগে যাবে। চিৎকার করতে থাকে স্বাধীন। ৬ মাস পর……।।

– Sorry Mr. Hasan. আমাদের যা করার তা চেষ্টা করেছি। আপনি তো বাইরেও নিয়ে গেলেন। ভাল হওয়ার থাকলে অনেক আগেই হতো। ও আর কখনোই স্বাভাবিক হতে পারবে না। – কিন্তু Doctor ও আমার একটা মাত্র ছেলে। ওর মা এ খবর জানলে হয়তো তাকেও হারাতে হবে আমাদের। – আমরা সত্যি দুখিত। ওকে এখন স্বর্ণার সৃতি নিয়ে বাচঁতে দিন। এটাই আপনাদের নিয়তি। হ্যাঁ স্বাধীন এখন পুরো পাগল। সারাদিন রাস্তায় রাস্তায় থাকে। আর স্বর্ণার নাম লেখে দেয়ালে নয়তো রাস্তায়। কিন্তু বিকেলে রেল লাইনের ধারে বসে স্বর্ণাকে খুজতে ভুল হয় না তার।

———The End———-

About valobashavalobashi

happy healthy helpfull ever after...

Posted on এপ্রিল 21, 2012, in GOLPO and tagged , . Bookmark the permalink. মন্তব্য দিন.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: